হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২ (দুই) একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং ভবনটি বাংলাদেশের একটি কারিগরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর মধ্যে অন্যতম। এই ইনস্টিটিউটটি শুরু থেকেই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করে আসছে। এই সম্পর্কে আমরা নিচে বিস্তারিত জানতে পারবো।
হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ইতিহাস
১৯৯৮ সালে হবিগঞ্জে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য প্রস্তাব করা হয়। ২০০০ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) হবিগঞ্জে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য অনুমোদন দেয়। ২০০১ সালে এই ইনিস্টিটিউটের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ২৭ অক্টোবর ২০০২ সালে (১২ই কার্তিক ১৪০৯ বঙ্গাব্দ) এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালে। প্রতিষ্ঠানটি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ৫নং গোপায়া ইউনিয়নের নূরপুর (উত্তর) মৌজার অর্ন্তগত। প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব হবিগঞ্জ জেলা শহর হতে প্রায় ৫ কিঃমিঃ এবং শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন হতে প্রায় ১০ কিঃমিঃ।
হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, হবিগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করছে।
এই ইনিস্টিটিউটটি দেশের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কারিগরি জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে।এই ইনিস্টিটিউটটি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
ইআইআইএন (EIIN) | ১৩৩১১৪ |
---|---|
ব্যবস্থাপনা | সরকারি |
শিক্ষার্থী ধরণ | সহশিক্ষা |
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | |
বাংলায় | হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট |
ইংরেজিতে (ব্লক লেটার) | HBYGANJ POLYTECNIC INSTIUTE, GUPAYA , HABIGANJ |
স্থাপিত | ১০/২৭/২০০২ |
ফোন | ০৮৩১৬২৩২০ |
মোবাইল | ০১৭১২০২৯৩৮১ |
ই-মেইল | principal.hpi@gmail.com |
ওয়েবসাইট | www.hpi.edu.bd |
ক্যাম্পাস ভূমি | ২একর |
ঠিকানা | |
হোল্ডিং নম্বর/রোড | গোপায়া |
ডাকঘর | গোপায়া |
পোস্ট কোড | ৩৩০২ |
ওয়ার্ড | ৩ |
উপজেলা/থানা | হবিগঞ্জ সদর |
জেলা | হবিগঞ্জ |
বিভাগ | সিলেট |
মিশন ও ভিশন
মিশন
এই প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের জন্য দক্ষ ও দক্ষতা সম্পন্ন মধ্যম স্তরের প্রকৌশলী তৈরি করে।
ভিশন
এই ইনিস্টিটিউটটি উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে চায়।
পরিচালনা পর্ষদ
মন্ত্রণালয় ও বিভাগঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের “শিক্ষা মন্ত্রণালয়” এর “কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ” এর অধিনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
প্রশাসনিক পরিচালনাঃ “বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর” হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
একাডেমিক পরিচালনাঃ “বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড” এইচপিআই এর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সুযোগ সুবিধা
প্রতিষ্ঠানটি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ৫নং গোপায়া ইউনিয়নের নূরপুর (উত্তর) মৌজার অর্ন্তগত। প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব হবিগঞ্জ জেলা শহর হতে প্রায় ৫ কিঃমিঃ এবং শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন হতে প্রায় ১০ কিঃমিঃ। বর্তমানে এখানে ৮ ধরনের ভবন রয়েছে যথাঃ- একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ,ওয়ার্কশপ ভবন ,অধ্যক্ষ ভবন,কর্মচারী ভবন ,পাওয়ার হাউস ,গাড়ির গ্যারেজ ,পাম্প হাউজ। এই ইনিস্টিটিউটটি বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে আধুনিক ও নতুনতম শিক্ষাক্রম অফার করে ডিপিআই স্নাতকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সুযোগ প্রদান করে।
শিক্ষার্থীদের তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য প্রচুর সুযোগ দেওয়া হয়। ডিপিআইতে আধুনিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি ও ওয়ার্কশপ রয়েছে। এই ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় ক্যাম্পাস লাইফ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মেধাবী ও গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। নিচে এই ইনস্টিটিউট সম্পর্কে আরো তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
লাইব্রেরী সুবিধা
এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই লাইব্রেরী স্থাপন করা হয়েছিল। এই ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরী, প্রতিষ্ঠানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লাইব্রেরীটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের তথ্যের প্রয়োজন পূরণ করে।
লাইব্রেরির জন্য পৃথক ভবন আছে। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা পাঠ্যপুস্তক ২০০০ সহায়ক ১০০০ লাইব্রেরি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) এর প্রশিক্ষণ আছে।
ওয়ার্কশপ ও ল্যাবরেটরি সুবিধা
এই ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আধুনিক ও সুসজ্জিত ওয়ার্কশপ এবং ল্যাবরেটরি রয়েছে। ওয়ার্কশপ এবং ল্যাবরেটরিগুলিতে আধুনিক ও উন্নত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের তাদের বিষয়ের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এখানে মোট ডেক্সটপ রয়েছে ১৩০ টি,ল্যাপটপ রয়েছে ১৫টি, মেরামত যোগ্য সচল রয়েছে ২০ টি ল্যাবরেটরী ব্যবহারকারী ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১৫৫০ টি।
মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান
এই ইনস্টিটিউটের রয়েছে একটি বড় পরিসরের মাঠ যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করে থাকেন। সেগুলো হলো ক্রিকেট,ফুটবল,ভলিবল ইত্যাদি এছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক ক্রিয়া অনুষ্ঠান এবং যেকোনো ধরনের প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্য কেন্দ্র
এই প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই তবে বিশেষ একটি কক্ষ রয়েছে যেখানে শিক্ষক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কর্মকর্তারা এইখানে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন। বর্তমানে এইখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং গুরুতর কোন সমস্যার কারণে আশেপাশে বড় হাসপাতালে যাওয়ার দরকার হয়।
আবাসিক হল
এই প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত কোন ছাত্রাবাস নেই তবে এর আশেপাশে মালিকানাধীন অনেক ভবন রয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত খরচ দিয়ে থাকতে হয় যেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এসে অবস্থান করে তাদের কাঙ্খিত শিক্ষা গ্রহণ করেন ।
কোয়াটার
হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে একটি মাত্র কোয়ার্টার ভবন রয়েছে। যেখানে বক্তব্য প্রতিষ্ঠানের যেই প্রিন্সিপাল আসেন তিনি থাকেন, শুধু প্রিন্সিপালের জন্যই কোয়াটার রয়েছে ।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান(মসজিদ)
অত্র প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্থান বলতে মসজিদ নেই, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজ পড়ার একটি কক্ষ রয়েছে যেটিতে মুসলিম শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নামাজ আদায় করে থাকে।
ক্যাম্পাসে মোট শিক্ষক এবং কর্মচারী
প্রিন্সিপাল | ১ জন |
ভাইস প্রিন্সিপাল | ২ জন |
চিফ ইনস্ট্রাকটর বা ডিপার্টমেন্ট প্রধান | ৪ জন |
জুনিয়র শিক্ষক | ২ জন |
সিভিল টেকনোলজি | ৯ জন |
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি | ৯ জন |
একাডেমিক কার্যক্রম
অত্র প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর কয়েকটি কোর্স চালু থাকে তার মধ্যে বিশেষ করে ডিপ্লোমা কোর্স টেকনোলজি ইত্যাদি কোর্সের বিস্তারিত নিম্নে দেওয়া হল।
বিভাগঃ
- কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি
- ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি
- সিভিল টেকনোলজি
- আর্কিটেকচার টেকনোলজি
সাধারনত ডিপ্লোমা কোর্স গুল ৪ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে যা ৮ টি সেমিস্টার এ বিভক্ত।
ছাত্রাবাস
হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদের জন্য আলাদা কোন ছাত্রাবাস নেই। হবিগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আসে পাশে অনেক মালিকাধীন ম্যাচ আছে। ছাত্ররা সেখানেই থাকে।
সাধারণত আমরা জানি যে বাংলাদেশের প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সম্পর্ক কিছু তথ্য আছে যেগুলো প্রায় একই থাকে বলা যায়, কারণ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে। প্রত্যেকটি তথ্যগুলো আমরা ভেরিফাইড ওয়েবসাইট থেকে নিয়েছি এবং প্রত্যেকটি তথ্য গুলো আমাদের রিসার্চ করা যার ধরুন আপনি এখান থেকে খুব ফ্রেশ এবং আপডেট তথ্যগুলো জানতে পারবেন। সাধারণত আমাদের যে বিষয়গুলো বেশি জরুরি হয়ে থাকে যেমনঃ ভর্তির যোগ্যতা, কোর্সের সময়সীমা, শিক্ষা ব্যাবস্থা, পড়াশোনা খরচ, ছাত্রাবাস ইত্যাদি উল্লেখিত পয়েন্টগুলো ইনফরমেটিভ আর্টিকেলে দেওয়া হয়েছে।
মোহেবুল্লাহ হোসেন মুবিন, প্রকাশ ০৭, সেপ্টেম্বর, ২০২৪