কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (সিপিআই) হলো বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে । ২০১৬ সালে ট্যুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং ২০২১ সালে ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজি চালু হয়। বর্তমানে প্রতিবছর ০৫ টি টেকনোলজিতে মোট ৬০০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়।
কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ইতিহাস
বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিষয়ক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সম্মান অর্জন করেছে। এছাড়াও, সিপিআই নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
এই প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজারে অবস্থিত এবং ২০০৪ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম ব্যাচে এই প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিজ্ঞানে মোট ২৯ জন নিয়ে ক্লাশ শুরু হয়। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানে আরো ৩ টি বিভাগ যোগ করা হয়। আমরা এই আর্টিকেলে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পারব।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (ডিআইই) কোর্স চালু আছে। শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২০০ জন।
ইআইআইএন (EIIN) | ১৩৬২৩৯ |
---|---|
নীতিবাক্য | প্রযুক্তি উন্নয়নের সোপান |
ব্যবস্থাপনা | সরকারি |
শিক্ষার্থী ধরণ | সহশিক্ষা |
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | |
বাংলায় | কক্সবাজার মডেল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট |
ইংরেজিতে (ব্লক লেটার) | COX’S BAZAR MODEL POLYTECHNIC INSTITUTE |
স্থাপিত | ২০০৪ |
ফোন | ০৩৪১৫১৬০০ |
মোবাইল | ০১৭৬২৭৩১৬০৬ |
ই-মেইল | cmpicox@gmail.com |
ওয়েবসাইট | WWW.CMPI.EDU.BD |
ক্যাম্পাস ভূমি | ২ একর |
ঠিকানা | |
হোল্ডিং নম্বর/রোড | দক্ষিন হাজিপাড়া |
ডাকঘর | ঝিলংজা |
পোস্ট কোড | ৪৭০১ |
ওয়ার্ড | ৯ |
উপজেলা/থানা | কক্স-বাজার সদর |
জেলা | কক্স-বাজার সদর |
বিভাগ | চট্টগ্রাম |
মিশন ও ভিশন
প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।
অধ্যক্ষ পরিচিতি
ইঞ্জি প্রদীপ্ত খীসা ১৯৬৮ সালের ১৮ই জুন খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত অনন্ত মাস্টার পাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জনাব অনন্ত বিহারী খীসা একজন বিখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর মা প্রয়াত শ্রীমতি চঞ্চলা খীসা ছিলেন একজন প্রখ্যাত সমাজকর্মী। তার পিতামহ সুরেন্দ্র নাথ খীসা একজন প্রখ্যাত জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন।
ইঞ্জি প্রদীপ্ত খীসা বিএসসি সম্পন্ন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিআইটি, চট্টগ্রাম (বর্তমান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। তাঁর স্নাতক ডিগ্রি থিসিসের শিরোনাম ছিল “লিনিয়ার প্রোগ্রামিং পদ্ধতি ব্যবহার করে কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের উত্পাদন সিস্টেম অপ্টিমাইজেশন”।
পরিচালনা পর্ষদ
মন্ত্রণালয় ও বিভাগঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের “শিক্ষা মন্ত্রণালয়” এর “কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ” এর অধিনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
প্রশাসনিক পরিচালনাঃ “বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর” কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট -এর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
একাডেমিক পরিচালনাঃ “বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড” সিজিপিআই এর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সুযোগ সুবিধা
২০০৪ সালে মাত্র একটি বিভাগ যেটি হচ্ছে “কম্পিউটার টেকনোলজি” নিয়ে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এসে ২০০৪ সালে আরেকটি নতুন সাবজেক্ট আর এ সি টেকনোলজি এবং ২০০৬ সালে ফুড ও সিভিল টেকনোলজি চালু করা হয়, এছাড়াও ২০১৬ সালে হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং ২০২১ সালের ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ চালু হয়। বর্তমানে প্রতিবছর পাঁচ টেকনোলজিতে মোট ৬০০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি দুই একর জমির উপর স্থাপত্যশীল আছে। এই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক ভবন-১, একাডেমিক ভবন-২, ওয়ার্কশপ- বিল্ডিং-২ ও অত্যাধুনিক মেশিন ও যন্ত্রপাতির সুষ্ঠ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশ সরকার বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিষয়ক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পলিটেকনিক শিক্ষার উপর যে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে, কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কারিগরি শিক্ষার সেই গুরুত্ব লালন করে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্রাজুয়েট ও স্বল্পমেয়াদী ট্রেডকোর্স এর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরী করে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এই ইনস্টিটিউটে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিম্নে তা তুলে ধরা হলোঃ
লাইব্রেরি সুবিধা
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর লাইব্রেরী রয়েছে এবং এই লাইব্রেরীটিতে পাঠ্যপুস্তক আছে প্রায় ১১২৫টি এবং সহায়ক বই রয়েছে ৮৫ টি। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই মনোরম পরিবেশ রয়েছে এই লাইব্রেরীতে। এই লাইব্রেরীতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে ২৮৫টি বই ইস্যু করা হয়। এছাড়াও লাইব্রেরিতে বাংলা এবং ইংরেজি ভাষা চর্চা করা হয়।
ওয়ার্কশপ এবং ল্যাবরেটরি সুবিধা
কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য সুসজ্জিত ওয়ার্কশপ এবং ল্যাবরেটরি রয়েছে। ওয়ার্কশপ এবং ল্যাবরেটরি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও এই ল্যাবরেটরী এবং ওয়ার্কশপ ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠাটিতে ২০ টি কম্পিউটার রয়েছে। তার মধ্যে ডেস্কটপ রয়েছে ১০টি এবং ল্যাপটপ রয়েছে ২টি এবং আরো ৮টি ডেক্সটপ রয়েছে।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসকক্ষ সংক্রান্ত
এই প্রতিষ্ঠাতে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসকক্ষ যার দরুন শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসগুলোকে আরো সুন্দরভাবে বুঝতে পারে। তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসকক্ষ গুলো ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাশকক্ষ রয়েছে এবং মোট দুইটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর রয়েছে।
মাঠ ও উন্মক্ত স্থান
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটিতে একটি একটি সুন্দর মাঠ রয়েছে যেখানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা শরীরচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করে থাকে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র
বর্তমানে আপাদত কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, তবে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র কক্ষ রয়েছে এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারবে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।
আবাসিক হল
বর্তমানে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোন আবাসিক হলের ব্যবস্থা করা হয়নি।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান(মসজিদ)
কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের রয়েছে একটি মসজিদ যেখানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নামাজ আদায় করে থাকে।
পলিটেকনিক ডাক বিভাগ
এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে আপাতত কোন নির্দিষ্ট পলিটেকনিক ডাক বিভাগ নেই।
ক্যাম্পাসে মোট শিক্ষক এবং কর্মচারী
অধ্যক্ষ | ১ জন |
ইনস্ট্রাক্টর | ১৮ জন |
কম্পিউয়ার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি | ৫ জন |
জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর | ১০ জন |
নাইট গার্ড | ১ জন |
একাডেমিক কার্যক্রম
কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বর্তমানে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (ডিআইই) কোর্স পরিচালনা করে আসছে।
বিভাগঃ
- সিভিল টেকনোলোজি
- কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি
- ফুড টেকনোলোজি
- আরএসি টেকনোলোজি
- ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলোজি
- ট্যুরিজম এন্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট
- নন টেক
শর্ট কোর্স
এখন বাংলাদেশ কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শর্ট কোর্স চালু নেই, শুধু ডিপ্লোমার গুলো কার্যরত আছে।
ছাত্র সংগঠন
বাংলাদেশ কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বর্তমানে ছাত্র আন্দোলনের পর কোন ছাত্র সংগঠন নেই।
ছাত্রাবাস
কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বর্তমানে কোন ছাত্রাবাস নেই। সাধারণত ছাত্ররা এই কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের ম্যাচে থেকে থাকে ।
সাধারণত আমরা জানি যে বাংলাদেশের প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সম্পর্ক কিছু তথ্য আছে যেগুলো প্রায় একই থাকে বলা যায়, কারণ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে। প্রত্যেকটি তথ্যগুলো আমরা ভেরিফাইড ওয়েবসাইট থেকে নিয়েছি এবং প্রত্যেকটি তথ্য গুলো আমাদের রিসার্চ করা যার ধরুন আপনি এখান থেকে খুব ফ্রেশ এবং আপডেট তথ্যগুলো জানতে পারবেন। সাধারণত আমাদের যে বিষয়গুলো বেশি জরুরি হয়ে থাকে যেমনঃ ভর্তির যোগ্যতা, কোর্সের সময়সীমা, শিক্ষা ব্যাবস্থা, পড়াশোনা খরচ, ছাত্রাবাস ইত্যাদি উল্লেখিত পয়েন্টগুলো ইনফরমেটিভ আর্টিকেলে দেওয়া হয়েছে।
মোহেবুল্লাহ হোসেন মুবিন, প্রকাশ ০৭, সেপ্টেম্বর, ২০২৪