কারিগরি বার্তা

ভর্তি পরীক্ষা ফের চালু সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে

লিখেছেন Abinobo School

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে আবারও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভর্তি প্রক্রিয়ায় ১০০ নম্বরের উপর মূল্যায়ন হবে। এর মধ্যে ৭০ নম্বর থাকবে বহুনির্বাচনি (MCQ) পরীক্ষার জন্য এবং বাকি ৩০ নম্বর নির্ধারিত হবে শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ অনুযায়ী। উল্লেখ্য, এর আগে সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষার প্রথা ছিল। তবে ২০১৬ সালে তা বাতিল করে শুধুমাত্র জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার আবার সেই পুরনো পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি পুনরায় চালু করা হলো।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গৃহীত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম জানান এ তথ্য।

সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, দেশের কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শুধু এসএসসি পাস করলেই যাতে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি হতে না পারে, সেজন্য শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা চাই, প্রকৃত আগ্রহী ও প্রস্তুত শিক্ষার্থীরাই কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত হোক।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে শুধুমাত্র এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ থাকায় অনেক সময় এমন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়, যারা বিষয়টিতে আগ্রহী নয় কিংবা মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। এতে করে ক্লাসে অনাগ্রহ, কোর্স সম্পন্ন করতে ব্যর্থতা এবং সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। “নতুন ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শুধুমাত্র দক্ষ, মনোযোগী এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে, পাঠদান কার্যক্রম হবে ফলপ্রসূ এবং কারিগরি শিক্ষায় শৃঙ্খলা ও মানের উন্নয়ন ঘটবে,” — বলেন সচিব।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শামসুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) মো. সাইফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি) রেহানা ইয়াছমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শোয়াইব আহমাদ খান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, আইডিইবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী কবির হোসেন ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন। শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)-এর সভাপতি ফারুক হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান সালমান সভায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ১২ জন প্রতিনিধিও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধি শাহজালাল আহমদ বলেন, “আমরা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। তবে আমাদের মূল দাবি ও সুপারিশগুলো যেন দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়— সেটাই আমাদের প্রধান প্রত্যাশা।”

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সর্বশেষ সভায় আমরা সম্মিলিতভাবে আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। এখন সেটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না, তা শিক্ষার্থীরাই জানাবে।” পরে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধি শাহজালাল আহমদ বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থী ভাইবোনেরা ইতোমধ্যে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরে গেছে। আমরা এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছি এবং আগামীতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আমরা এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করবো না, যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।”

ছয় দফা দাবিতে গত ২৯ এপ্রিল থেকে দেশের অধিকাংশ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তালা ঝুলিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন।

কারিগরি শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথমত, হাইকোর্ট কর্তৃক জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের অবৈধ পদোন্নতির রায় বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যেকোনো বয়সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ বাতিল করতে হবে। তৃতীয়ত, উপসহকারী প্রকৌশলী ও সমমান (১০ম গ্রেড) পদে নিয়োগে সংরক্ষিত থাকার পরও যেসব প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিচু পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থত, কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাপনায় পরিচালক, সহকারী পরিচালক, বোর্ড চেয়ারম্যান, উপসচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অধ্যক্ষসহ সব পদে অকারিগরি জনবল নিয়োগ নিষিদ্ধ করে আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, পৃথক ‘কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা’ মন্ত্রণালয় এবং ‘কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করতে হবে। এবং ষষ্ঠত, পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি উন্নতমানের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং নির্মাণাধীন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (নড়াইল, নাটোর, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁও) অস্থায়ী ক্যাম্পাস ও ডুয়েটের অধীনে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে পরবর্তী সেশন থেকেই শতভাগ আসনে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

লেখক সম্পর্কে

Abinobo School

নিউজ
চাকরি
Home
Question
Search